দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দিনের সড়ক অবরোধ: দিনে ট্রাক চলাচল বন্ধসহ দাবি ঘোষিত



স্টাফ রিপোর্টারঃ (দিনাজপুর) সিয়ামুর রশিদ, 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ঘুঘুরাতলী এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। তরুণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে দিনাজপুর–পার্বতীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে। তাঁদের প্রধান দাবি হলো দিনেঘণ্টা ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করা এবং গতপর্শু ঘটে যাওয়া ট্রাক্টর চাপায় নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী খালিদ মোহাম্মদের জন্য দায়ী চালকের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নেওয়া। 
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকে সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেন চিরিরবন্দরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আটকানো অবস্থায় দিনাজপুর-পার্বতীপুর মহাসড়কের যানবাহন উভয় পাশে দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে, ফলে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে বহু ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। 
শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে জানান, গতপর্শু (রবিবার) দ্রুতগতির ট্রাক্টরের ধাক্কায় খালিদ মোহাম্মদ নামক এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে যথাযথ বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের দাবি, দিনব্যাপী ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করাসহ, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। 
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেহা তুজ জোহরা প্রশাসনের আশ্বাস তুলে দেন যে, দিনের বেলা ট্রাক্টর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ট্রাক্টর চালকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়বিধি প্রণয়ন করা হবে। এমন শর্তে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
এ ঘটনায় ঘুঘুরাতলীর আশপাশে যানজট সৃষ্টি হলেও পরে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সমঝোতায় সড়ক চালু হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এলাকাবাসী জানান, তারা শিক্ষার্থীদের দাবির পেছনে সহানুভূতিশীল, বিশেষত যখন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ। 
এ ধরনের অবরোধ কর্মসূচি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের জন্য একটি শক্তিশালী আবেদন হিসেবেও কাজ করছে যে, সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ কমাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

কোন মন্তব্য নেই: