ফাদার মারিনো রিগনের কাছে ঋণী সুন্দরবন উপকূল
ব্যুরো প্রধান খুলনা বিভাগ,
এস এম শাহরিয়ার
সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদের শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সামাজিক জাগরণে ফাদার মারিনো রিগনের অবদান অবিস্মরণীয়। বক্তারা বলেন, ফাদার রিগনকে বাদ দিয়ে মোংলার ইতিহাস কল্পনা করা যায় না। পঞ্চাশের দশকে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিশুদের স্কুলমুখী করেছেন। তাঁর সেই উদ্যোগ না থাকলে এই অঞ্চলের বহু মানুষ আজও অন্ধকারেই রয়ে যেত।
বৃহস্পতিবার সকালে ফাদার মারিনো রিগনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধিস্থলে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। সেন্ট পল্স ক্যাথলিক চার্চ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, মোংলা সরকারি কলেজ, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মোংলা নাগরিক সমাজ, হলদিবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সেবা সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেন্ট পল্স ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল, সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ, মোংলা সরকারি কলেজের প্রভাষক শ্যামা প্রসাদ সেন, বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, সহকারী পালক পুরোহিত রিপন সরদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্র নাথ হালদার, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নিশিকান্ত বিশ্বাস, সার্ভিস বাংলাদেশ-এর মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সেবা সংস্থার মিনা হালদার, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলম বাবু, শিল্পকলা একাডেমির মোল্লা আল মামুন, যুবনেতা মেহেদী হাসান ও পরিবেশকর্মী কমলা সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফাদার মারিনো রিগন সুন্দরবন উপকূলে মানবিক উন্নয়ন ও প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানবসেবার পাশাপাশি তিনি এ দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।
মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ বলেন, ফাদার রিগনের চিন্তায় ছিল রবীন্দ্রনাথ এবং হৃদয়ে ছিল লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত সাংস্কৃতিক দূতের ভূমিকা পালন করেছেন। রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি গ্রন্থ এবং লালন সাঁইয়ের সাড়ে তিন শতাধিক গান তিনি ইতালীয় ভাষায় অনুবাদ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মোংলা অঞ্চলে ফাদার রিগন ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পল্স স্কুল, হাসপাতাল ও সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্মরণানুষ্ঠানে ফাদার রিগনের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পাশাপাশি তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রদ্ধানুরাগীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: