জ্বালানী সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও সংকট দেখা দিয়েছে,ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
জুয়েল ইসলাম শান্ত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের এখানে তেলের দাম বেড়ে গেছে। আমি ঠাকুরগাঁওয়ে আসার সময় লক্ষ্য করেছি পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে অনেক গাড়ির লাইন। এই সংকটটা কিন্তু তেল কমের জন্য নয়; তেল সরবরাহ কম হওয়ার জন্য নয়, কিছুটা মানুষের তৈরী করা। দু:খজনকভাবে কিছু মানুষ এটি নিয়ে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে, যে ব্যবসাটা আমাদের জন্য, দেশের জন্য, জাতির জন্য ক্ষতিকর। বেশি দামে তেল বিক্রি করে নৈরাজ্যের চেষ্টা করছে, এটা করতে দেওয়া যাবে না। তিনি শুক্রবার বিকেলে মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন তিনি।
উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতি এক বান্ডিল টিন, ৩ হাজার টাকা করে মোট ৫শ টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়াও মোট ৮০টি পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ৬ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হবে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার প্রতি এক বান্ডিল টিন এর জন্য ৭০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে। ৫হাজার টাকা পরিবারপ্রতি এমন পরিবারের সংখ্যা ৬০টি। ৮৮টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হবে। এছাড়াও আমার মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, কবরস্থান ৫টি, ঈদগাহ ৪টি, শ্মশান ১টিসহ সর্বমোট ২৯৪ টি প্রতিষ্ঠানকে চেকপত্র প্রদান করবো যার মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
দেশে তেলের কোন সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, হঠাৎ করে একটি দুর্ভোগ এসে গেছে, দুর্যোগ। ইরান-অ্যামেরিকার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সে যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। আমরাও বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আমরা জেলা প্রশাসকদের বলেছি, এটির দিকে নজর দিতে হবে। এটির দিকে সজাগ দৃষ্টি দিয়ে কেউ যাতে কোনভাবেই জনসাধারণের দুর্ভোগ তৈরী করে তেল বেশি দামে বিক্রি করে ফায়দা না লুটতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারও এটি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখছে।
সুবিধাভোগীদের জন্য অনেক উপহার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে যে রাস্তাগুলো কাঁচা আছে সেগুলোকে পাকা করনের কাজ করা হবে। আপনারা কখনও বিচোলিত হবেন না, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবেন না। যারা মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা প্রতারণা করে তাদেরকে প্রশ্রয় দিবেন না। দু:খজনকভাবে বাংলাদেশে একটি জিনিস লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। আমরা তথা জনগন ঐক্যবদ্ধ ভাবে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করেছি ৫ আগষ্টে। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমার দল আন্দোলন করেছে, আমার জোট আন্দোলন করেছে। আমার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১৩ জন শহীদ হয়েছেন। এটার মূল্য, যারা জান দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে, আমাদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ তৈরীর জন্য সেটার পুরস্কার দিতে হবে, বাংলাদেশ একটি শান্তিময়, স্থিতিশীল ও একটি উন্নত বাংলাদেশ দেখতে চাই। একই সাথে ঠাকুরগাওকে আমরা একটি উন্নত জেলা হিসেবে দেখতে চাই।
ঠাকুরগাঁওয়ের বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এলজিইডির মাধ্যমে রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলছে। আরও একটি নতুন প্রকল্প আসছে, আরও দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন, আমরা ইনশায়াল্লাহ কাজ করবো। আমাদের মা বোনদের জন্যও কাজ করা হচ্ছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ক্রিস্টান সব মিলে যাতে কাজ করতে পারি। আদিবাসীদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও অঞ্চল থেকে একজন সাওতাল নারী যাকে সংসদে মহিলা আসনে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি গর্বের কথা। আজকে সংসদে তিনি আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আগামী রবিবার ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হবে। ইউনিভার্সিটির কাজ শুরু হবে। বিমানবন্দরের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী মহাসড়ক বাড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেছি। বাইপাসের কাজ ইতিমধ্যে কাজ শরু হয়েছে। রুহিয়া, ভুল্লী উপজেলা করার কাজ প্রায় শেষ করেছি।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘুর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: গোলাম ফেরদৌস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: খোদাদাদ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মামুন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ প্রমুখ। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রকল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তা, বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুবিধাভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই: