মৌমিতার মৃত্যু ঘিরে খুবিতে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম


       ব্যুরো প্রধানঃখুলনা

     এস এম শাহরিয়ার

সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠী মৌমিতা হালদারের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নগরীতে ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যান চলাচল বন্ধ, হল রোড সংস্কার, ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং গল্লামারী সেতুর নির্মাণ দ্রুত শেষ করার দাবি তোলা হয়।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত দায়ীদের শনাক্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাদের ভাষ্য, সড়কে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে এ ধরনের প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব নয়। দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।


আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা বলেন, “প্রতিদিন সড়কে বের হলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। একটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”


মৌমিতার সহপাঠীরা দাবি করেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু—তা খতিয়ে দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান তারা।


শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। আইন ডিসিপ্লিনের একাধিক শিক্ষক বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের জন্য গভীর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। দায় নির্ধারণ করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের এই শোক ও ক্ষোভ যৌক্তিক। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান ফটকের সামনে স্পিড ব্রেকার মেরামত এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।


তিনি আরও বলেন, গল্লামারী সেতুর নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আবারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।


ট্রেজারারসহ অন্যান্য শিক্ষকরা বলেন, যেখানে সাধারণত যানবাহনের চাপ কম থাকে, সেই সড়কেও এমন দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন জরুরি।


উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর জেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মৌমিতা হালদার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি আইন ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ডুমুরিয়ার চুকনগরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

কোন মন্তব্য নেই: