মেধাই একমাত্র যোগ্যতা--কনস্টেবল নিয়োগে স্বচ্ছতার আশ্বাস ডিআইজির


 বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ খুলনা

এস এম শাহরিয়ার

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা দালালচক্রের প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, পিপিএম। তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।


বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


ডিআইজি বলেন, “পুলিশে চাকরি পেতে টাকা লাগে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কোনো দালাল বা প্রতারকের প্রলোভনে পড়ে অর্থ লেনদেন করবেন না।” তিনি প্রার্থীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জমিজমা বিক্রি বা ধার করে কারও হাতে টাকা তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


তিনি জানান, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় কনস্টেবল পদে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে কয়েক হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।


নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকাতে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান ডিআইজি। কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করলে এবং তা তিন বছরের মধ্যে প্রমাণিত হলে তার চাকরি বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম কিন্তু যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “যোগ্যতা থাকলে তাদের জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন নেই—মেধাই হবে একমাত্র বিবেচ্য।”


এদিন থেকেই খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় কনস্টেবল নিয়োগের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।


নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে ডিআইজি বলেন, কোথাও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।


প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই: