বিকেলের পড়াশোনা: কোচিং আর মোবাইলে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সময়।


রংপুর সদর প্রতিনিধি 

মোঃহাসান আলী 

খেলার মাঠ ফাঁকা, পড়াশোনায় বাড়ছে চাপ, নতুন বাস্তবতায় অভ্যস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

একসময় বিকেল মানেই ছিল শিশু-কিশোরদের দৌড়ঝাঁপ আর খেলাধুলার সময়। কিন্তু সময় বদলেছে এখন। বিকেল হলেই বইয়ের ব্যাগ কাঁধে কোচিং সেন্টারের পথে ছুটছে চলা , কিংবা হাতে মোবাইল নিয়ে অনলাইন ক্লাস ও পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে ছোট থেকে বড় সকল ক্লাসের শিক্ষার্থীরা।

শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো । বিশেষ করে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোচিং নির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক অভিভাবকই মনে করেন, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফল করতে হলে কোচিংয়ের বিকল্প নেই।

কথা হয় রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের এর সাথে সে জানায়, “স্কুল-কলেজ শেষে একটু বিশ্রাম নিয়েই কোচিংয়ে যেতে হয়। বাসায় এসে আবার মোবাইল দিয়ে পড়া এবং ফেসবুকিং সময় শেষ।

অন্যদিকে এক অভিভাবক বলেন, “ছেলের ভবিষ্যতের জন্যই কোচিংয়ে পাঠাচ্ছি। এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।”

শুধু কোচিং নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা। ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখে পড়াশোনা করছে অনেকেই। এতে যেমন শেখার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি বাড়ছে স্ক্রিন নির্ভরতা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তেল সংকটের প্রশ্ন তুলে  রাজধানীতে শুরু করে তিন দিনের অনলাইন ক্লাস। এতে সকল শিক্ষার্থীর অনলাইন ডিভাইস ও সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

 বিকেলের খেলাধুলা কমে যাওয়ায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 এক শিক্ষক বলেন, “শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ হয় না। খেলাধুলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। "

উন্নত দেশে শিক্ষা মুখস্থ ও পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার উপর নির্ভর করে না বরং মিউজিক, স্পোর্টস, আর্ট, কোডিং ক্লাব প্রজেক্ট, গ্রুপ ওয়ার্ক, আলোচনা নির্ভর সৃজনশীল শিক্ষা প্রাধান্য পায়। ক্লাস শেষে প্রতিদিন ১-২ ঘন্টা এক্সট্রা এ্যাক্টিভিটি ও খেলাধলা বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে।

আমাদের দেশের পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় শিক্ষা যেমন প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের সহজ-সরল আনন্দ। 

এখন প্রশ্ন উঠছে—এই ধারায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কতটা ভারসাম্যপূর্ণ হবে?

কোন মন্তব্য নেই: